মেট্রোরেল লাইনের নিচের অংশ পুরোপুরি ক্লোজড সার্কিড (সিসি) ক্যামেরার আওতাভুক্ত কিনা, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে রবিবার (২৩ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঁঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির আট দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রতিবেদন দেখে এই আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে এ সংক্রান্ত তিনটি রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. তানভীর আহমেদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। পরে আইনজীবী তানভীর আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুরো মেট্রোরেলে নিচের অংশে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা, যদি না করে থাকে তবে তা কিভাবে নজরদারী করা হয়, এ বিষয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন আদালত। আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ রেখে এই সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ফার্মগেটে মেট্রো রেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে পথচারী আবুল কালামের মৃত্যু হয়। এর এক বছর আগেও একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রয়তা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক তিনটি রিট আবেদন করা হয়। পরে ২৯ অক্টোবর এসব রিট একসঙ্গে শুনানি হয়। প্রাথমিক শুনানির পর রুলসহ আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে মেট্রোরেল প্রকল্পের লাইন, পিলারসহ কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্থয়িত্ব পর্যালোচনা-নিরূপনের জন্য সড়ক পরিবহন সচিবকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন আদালত।
পরে বিশ্বিবিদ্যালয়ের শিক্ষক, অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে সরকার। গত মাসের শুরুতে প্রতিবেদন দেয় এই কমিটি। মেট্রোরেলের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেওয়া ত্রুটি দ্রুত মেরামত করতে আট দফা জরুরি সুপারিশ ছিল প্রতিবেদনে, যা ৩০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে বলা হয়ে। এছাড়াও প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদী করণীয় ও পদ্ধতিগত করণীয় বিষয়েও সুপারিশ ছিল।
এই প্রতিবেদনের আলোকে গত ১৫ জুলাই ফের আদেশ দেন হাইকোর্ট। জরুরি সুপারিশগুলো এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয় ডিএমটিসিএলকে। পরে ডিএমটিসিএল এই প্রতিবেদন দাখিল করে, যা আজ রবিবার শুনানিতে ওঠে। এই প্রতিবেদনে জরুরি সুপারিশগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এরপর আদালত সিসি ক্যামেরা নিয়ে আদেশ দেন।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.