ইমরান খানকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে অবিলম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ বলেছে, যে কোনো অভিযুক্তের স্বাস্থ্যসেবার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার। আদালত ইমরান খানের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে যেখানে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. ফয়সাল এবং ডা. উজমা খানকেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আদালত পরবর্তী শুনানিতে ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদন উপস্থাপনেরও নির্দেশ দিয়েছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য এবং তার সঙ্গে সাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়ে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মহাসচিব সালমান আকরাম রাজা এবং ইমরান খানের বোন উজমা খান যে আবেদন করেছিলেন, তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট তার আদেশে আরও বলেছে, ইমরান খানের চিকিৎসায় যে সব ব্যয় হবে, তা তার পরিবার বহন করবে। তাঁকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার সময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি ঘটানো যাবে না।

আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্ট সুপ্রিম কোর্টে যে চিকিৎসা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, তাতে বলা হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের ‘গুরুতর’ উপসর্গ দেখা গেছে।

ইমরান খানের চিকিৎসা প্রতিবেদনে উদ্বেগের মাত্রা ‘লেভেল থ্রি প্লাস’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে সর্বশেষ ১০ অগাস্ট একটি মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা করে। ওই মেডিকেল বোর্ডে চক্ষু, হৃদরোগ এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বয়স প্রায় ৭৩ বছর। তিনি মাথায় ভারী অনুভূতি এবং দ্রুত হৃদস্পন্দনের অভিযোগ করেছেন। তবে চিকিৎসা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বুকে ব্যথা, চাপ অনুভূত হওয়া বা শ্বাসকষ্টের কোনো অভিযোগ ছিল না। মেডিকেল বোর্ড রক্তচাপ এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল।

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.