সেনা জেনারেলের স্বীকারোক্তিতে অস্বস্তি বাইডেনের

মার্কিন কংগ্রেসের সেনেটে আফগানিস্তান নিয়ে তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে। তার মধ্যে আছেন সেনা জেনারেল মার্ক মিলি, জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন। আফগানিস্তান নিয়ে তারা প্রেসিডেন্টকে কী বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা কী ভাবছেন, এই সমস্ত প্রশ্নই তাদের করা হয়। বস্তুত, সেনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সামনে তাদের বলতে বলা হয়। সেনেটররা তাদের প্রশ্নও করেন।

তেমনই এক প্রশ্নের জবাবে ম্যাকেঞ্জি জানান, সেনার পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বলা হয়েছিল, আফগানিস্তানে আড়াই হাজার সেনা মোতায়েন রাখতে। তাদের সরাতে না। কিন্তু বাইডেন তাতে রাজি হননি।

সমস্যা হলো, সংবাদমাধ্যমের হাতে এ খবর অনেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। অগাস্ট মাসেই এবিসি নিউজ বাইডেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। সেখানে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। বাইডেন জানিয়েছিলেন, এমন কোনো ঘটনা তিনি জানেন না। কিন্তু সেনেটে সেনা জেনারেল ফের একই কথা বলায় সমস্যায় পড়েছেন বাইডেন।

ম্যাকেঞ্জির কথা সমর্থন করেছেন জেনারেল মিলি। এখন তিনি বাইডেনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। মিলি জানান, ম্যাকেঞ্জির কাছ থেকে প্রস্তাব আসার পরে তিনিও এ বিষয়ে বাইডেনের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট রাজি হননি।

এরপরেই রিপাবলিকান সেনেটররা শোরগোল শুরু করেন। তাদের বক্তব্য, সেনার কথা প্রেসিডেন্ট না-ই মানতে পারেন। কিন্তু কেন তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেন?

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, সেনা প্রস্তাব দিলেই যে প্রেসিডেন্টকে মানতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। প্রেসিডেন্ট নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু তারপরেও বিরোধীদের থামানো যায়নি। তাদের প্রশ্ন, বাইডেন বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন কেন? একই সঙ্গে তাদের প্রশ্ন, প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, সমস্ত মার্কিন নাগরিককে দেশে ফেরানো পর্যন্ত আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা থাকবে। কিন্তু এখনো আফগানিস্তানে মার্কিন নাগরিক আছে। তাদের উদ্ধার করার জন্য সেনা নেই।

আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই জেনারেল। তারা জানিয়েছেন, যত দ্রুত তালেবান ক্ষমতা দখল করেছে, তা তারা কল্পনা করতে পারেননি। তারা ভেবেছিলেন, আফগান সেনা প্রতিরোধ তৈরি করতে পারবে। তবে শেষপর্যন্ত যে তালেবান ক্ষমতা দখল করবে, তা তারা বুঝতে পেরেছিলেন। তাদের বক্তব্য, আফগানিস্তানে আল কায়দা এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। আইএস এবং আল কায়দার সঙ্গে তালেবানের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে। আগামী ১২ থেকে ৩৬ মাসের মধ্যে ফের আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সংগঠনগুলো আমেরিকার উপর আক্রমণ চালাতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। তাদের বক্তব্য, বাইডেন বলেছিলেন, আল কায়দার শক্তি অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া গেছে। কিন্তু জেনারেলদের বক্তব্যে স্পষ্ট, এখনো তাদের যথেষ্ট প্রভাব আছে। সূত্র: ডিডাব্লিউ, রয়টার্স, এপি

 

অর্থসূচক/এএইচআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •