সন্তানকে গলাকেটে হত্যার পর আটক মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

লক্ষ্মীপুরে বাকবিতণ্ডার মধ্যে স্বামীর দেয়া তালাক সহ্য করতে না পেরে গৃহবধূ সাবিনা ইয়াসমিন তার একমাত্র ছেলে শিশু আয়ান রহমানকে (৪) গলাকেটে হত্যা করেছে। এরপর তিনি নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে সাবিনাকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য শিশুটির মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার লাহারকান্দি ইউনিয়নের লাহারকান্দি গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, সাবিনা সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের তেওয়ারীগঞ্জ গ্রামের সৌদি প্রবাসী আজগর রহমানের স্ত্রী। শিশু আয়ানসহ যৌথ পরিবার নিয়ে তিনি লাহারকান্দি গ্রামে হাফিজ খাঁ’র বাড়িতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সংসারে আর্থিক সঙ্কট দেখা দেয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও কলহ শুরু হয়। সর্বশেষ রোববার সন্ধ্যায় মুঠোফোনে সাবিনা ও তার স্বামীর ঝগড়া হয়। পরে প্রতিদিনের মতো আয়ানকে নিয়ে তিনি নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন৷ কিছুক্ষণ পরই ওই কক্ষ থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। এরপর চিৎকার করে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দরজা ভেঙ্গে ভেতরে গিয়ে দেখে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সাবিনা আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন। শরীরে রক্ত মাখা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক খাটের ওপর তার ছেলে আয়ানের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পাশেই রক্তমাখা অবস্থায় ধারালো বটি পড়েছিল।

সাবিনার শশুর হুমায়ুন কবির ও দেবর আবির জানায়, সাবিনার স্বামী আজগর সৌদিতে রয়েছে। সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়৷ ঝগড়ার কারণে সাবিনা অনেক বেশি রাগান্বিত ছিল। তারা তাকে শান্তনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে প্রতিদিনের মতো নিজ কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে আয়ানকে হত্যা করে নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মহব্বত আলী জানান, সাবিনাসহ পরিবারের সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। বাকবিতণ্ডায় আজগর তাকে ‘তালাক’ দিয়েছেন বলে তিনি (সাবিনা) জানিয়েছেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ছেলেকে হত্যার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসীম উদ্দিন বলেন, হত্যার ঘটনা গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশুর দাদাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি।

অর্থসূচক/এএইচআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •