জেএমআই গ্রুপের বিশ্ব শান্তি দিবস উদযাপন

জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শান্তি দিবস উদযাপন করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী জেএমআই গ্রুপ। প্রায় একযুগ ধরে বাংলাদেশে জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। করোনার সংক্রমণ এড়াতে এবার উদযাপন হয়েছে সীমিত পরিসরে।

এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউয়ে জেএমআই গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান জাবেদ ইকবাল পাঠান। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল ইসলাম।

এসময় জাবেদ ইকবাল পাঠান বলেন, শান্তি মানে এখন আর শুধু সংঘাত থেকে মুক্তি নয়। শান্তি মানে এখন একে-অন্যের কল্যাণে, সুষম সমাজ গঠন আর পরিবেশবান্ধব পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য কাজ করা।

তিনি বলেন, আমরা জেএমআই গ্রুপের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত প্রায় সাত হাজার ৫০০ কর্মী দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

জাবেদ ইকবাল পাঠান আরও জানান, করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেএমআই গ্রুপ। বিশ্বমানের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে জেএমআই গ্রুপের মলিকিউলার ল্যাবে এবং করোনাপ্রতিরোধী গণটিকাদান কর্মসূচিতেও একমাত্র দেশীয় প্রতিষ্ঠান হিসবে সিরিঞ্জ সরবরাহ করছে জেএমআই।

দেশ-বিদেশে করোনার কারণে কর্মহীন মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, আমরা হয়তো কর্মহীন সবাইকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে পারবো না। কিন্তু যতটুকু সম্ভব আর্থিকভাবে অথবা মানসিকভাবে আমাদের আশপাশের কর্মহীনদের পাশে আমাদেরকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত দুই বছর ধরে আমরা একটি পরিবর্তিত বিশ্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য কাজ করা, তেমনি আমাদেরকে ব্যক্তি পর্যায়ে একে-অপরের দায়িত্ব নিতে হবে। জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নয়নের পুরোটাই কাজে লাগাতে হবে মানব কল্যাণে। বিশ্বের যেসব দেশ ও প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন তৈরি করছে, তাদেরকে ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশ ভ্যাকসিনের সুবিধার বাইরে। তাদের জন্য ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই সমতার বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

জেএমআই গ্রুপের ব্র্যান্ড ম্যানেজার আল ইমরানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নিপ্রো-জেএমআই ফার্মা লিমিটেডের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান পাটোয়ারী, জেএমআই সিরিঞ্জেস অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইসেস লিমিটেডের পরিচালক আবু জাফর চৌধুরী, পরিচালক (অর্থ) হিরোশি সাইতো, জেএমআই গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম, নির্বাহী পরিচালক মো. তানভীর হোসাইন, মো. আলী হোসাইন এবং নিপ্রো-জেএমআই মার্কেটিং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কুনিও (কেনি) তাকামিদো।

একটি যুদ্ধবিহীন বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনটিকে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের ‘তৃতীয় মঙ্গলবার’ এই দিবসটি পালিত হয়ে আসলেও ২০০২ সাল থেকে তা ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করে সারা বিশ্বে অতি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘রিকভারিং বেটার ফর অ্যান ইকুইটেবল অ্যান্ড সাসটেইনেবল ওয়ার্ল্ড’ বা ‘স্থিতিশীল এবং সমতার বিশ্বের জন্য আরও ভালো অবস্থা পুনরুদ্ধার’।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •