ফের পরীমনির হাতে ‘রহস্যময়’ বার্তা

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে তিনি উপস্থিত হোন।

এদিন আদালত চত্বরে প্রবেশের সময় গাড়িতে দাঁড়িয়ে ভক্তদের অভিবাদন জানান পরীমনি। এ সময় আগের বারের মতো তার হাতের তালুতে মেহেদীর রঙে আঁকা ‘রহস্যময়’ বার্তা চোখে পড়ে। যেখানে লেখা, ‘… মি মোর’। অবশ্য এই বার্তা যে তার নিন্দুকদের উদ্দেশে, সেটা সহজেই অনুমেয়।

নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরীমনি আজ নিজেই হাজতখানার গেট দিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ ও তার কিছু আত্মীয় হাজতখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। হাজিরা দেওয়ার সময় পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সৌরভি তার (পরীমনির) সাদা রঙের গাড়ি, মোবাইল, ল্যাপটপসহ অন্যান্য জব্দ হওয়া জিনিসপত্র চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

আবেদনের পর পরীমনি বলেন, ‘র‌্যাব আমার বাসায় অভিযান চালানোর সময় সব ড্রয়ার ও আসবাবপত্র তছনছ করে ফেলে। এমনকি প্রেসক্রিপশনসহ আমার ওষুধের বক্সটা পর্যন্ত তারা নিয়ে যায়। আমার গাড়িসহ অন্যান্য জিনিসের কোনও কাগজপত্র আমার কাছে নেই। বাসায় আমি ছাড়া আর আমার কোনও কিছুই নেই।’

এর আগেও মাদক মামলায় জামিন পেয়ে গেল ১ সেপ্টেম্বর কারামুক্ত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বের হওয়ার সময় কারাফটকে তিনি উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে শুভেচ্ছা জানান। সে সময় তার হাতে লেখা ছিল, ‘Dont ও লাভ চিহ্ন, এরপর me Bitch’ (ডোন্ট লাভ মি বিচ)।

গত ৪ আগস্ট সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওইদিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র্যাব সদরদফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে র‌্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। এরপর তাকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরও দুই দফায় তিন দিনের রিমান্ডে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এজন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরও অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন।

অর্থসূচক/এএইচআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •