চলে গেলেন আম্পায়ার নাদির শাহ

ফুসফুসের ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে আর পেরে উঠলেন না বাংলাদেশের আইসিসি প্যানেল আম্পায়ার নাদির শাহ। আজ শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর।

সাবেক এই আন্তর্জাতিক আম্পায়ার গত দুই বছর যাবত ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মাঝে বেশ কয়েকবার তিনি দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। শারীরীক অবস্থার অবনতি হলে সর্বশেষ সপ্তাহখানেক আগে তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন আগে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।

নাদির শাহ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাহাঙ্গীর শাহ বাদশাহর ছোট ভাই। ২০০৬ সালে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-কেনিয়া ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিং শুরু।

তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বিসিবি পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নাদির শাহ (১৯৬৪-২০২১)। আমাদের ভালোবাসার মানুষ, অতুলনীয় নাদির শাহ আর নেই। তার বিদেহী আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করছি।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলট লিখেছেন, ‘আমাদের প্রাণপ্রিয় সদা হাস্যোজ্জ্বল সাবেক ক্রিকেটার এবং আইসিসি প্যানেল আম্পায়ার নাদির ভাই আর নেই। আজ ভোর রাত ৩:৪৮ মিনিটে তিনি ধানমন্ডি আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য, আর নিশ্চয়ই তার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী)।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাত্র ৫৭ বছর বয়সেই ফুসফুসের ক্যানসারের সাথে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন আমাদের প্রিয় নাদির ভাই। আল্লাহ যেন উনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন… আমিন।’

নিজের পোস্টে জানাযার সময় জানিয়ে পাইলট আরও লিখেছেন, ‘জানাযার নামাজ আজ বাদ জুম্মা ধানমনডি ৭নং মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।’

বগুড়ায় বাংলাদেশ-কেনিয়া ম্যাচ দিয়ে ২০০৬ সালে শুরু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আম্পায়ারিংয়ের পথচলা শুরু নাদির শাহের। ৬ বছরে ৩টি টোয়েন্টির পাশাপাশি পরিচালনা করেছেন ৪০ ওয়ানডে ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। বড় ভাই জাহাঙ্গীরের মতো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াতে না পারলেও আশির দশকে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ছিলেন নাদির শাহ। একাধারে খেলেছেন ভিক্টোরিয়া, বিমান, আবাহনী, মোহামেডানের মতো ক্লাবের হয়ে।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •