নোয়াখালীতে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়া ছাত্রলীগ নেতাসহ চার অস্ত্রধারী গ্রেফতার

নোয়াখালীর মাইজদী শহরে জেলা আওয়ামী লীগের তিনটি গ্রুপের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের অবৈধ অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের ভিডিওর সূত্র ধরে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনকারী ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে মো. রাফেজকে (২৮) গুলি করা ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় চাঁদাবাজি ও মারামারির ছয়টি মামলা রয়েছে।

রাফেজ জেলা ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহিনের অনুসারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শিহাব উদ্দিন তা অস্বীকার করেছেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে মো. রাফেজ (২৫), বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার পৌর হাজীপুর এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে মো. আবুল হায়াত রায়হান ওরফে খালাশী রায়হান (২৬), সদর উপজেলার পশ্চিম শুল্যকিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুছ (৪০) ও উপজেলার কাশিপুর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন (৩৯)।

তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার নোয়াখালীর দুটি উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশ প্রশাসন জানায়, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের ৩টি গ্রুপ একই স্থানে একই সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা দেয়। ঘোষিত কর্মসূচি সফল করার জন্য বিকালে এমপি একরামুল করিম চৌধুরী গ্রুপ, মেয়র শহিদ উল্যা খান সোহেলের গ্রুপ এবং অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের গ্রুপের মধ্যে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শটগান দিয়ে গুলি করে।

এ সময় অ্যাডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহিনের অনুসারী এক কর্মী প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে প্রদর্শন করে। যার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে এ ঘটনায় সুধারাম থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত ভিডিও ক্লিপ সংগ্রহ করে। ভিডিও ক্লিপ পর্যালোচনা করে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শনকারী ৬ মামলার আসামি মো. রাফেজকে শনাক্ত করে। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করে।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •