সাবেক কর্মকর্তাদের দেশে ফেরার আহ্বান নতুন আফগান প্রধানমন্ত্রীর

তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর সাবেক আফগান সরকারের যেসব কর্মকর্তা পালিয়ে গেছেন, তাদের সবাইকে স্বদেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ।

তিনি বলেছেন, তাদের (সাবেক কর্মকর্তা) সবার সুরক্ষা ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেবে তালেবান। বুধবার (০৮ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

তালেবানের ক্ষমতা দখলের তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ডজনখানেক মন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করা হয়।

আল–জাজিরার সাক্ষাৎকারে মোল্লা হাসান আখুন্দ বলেন, তালেবান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দূতাবাস, কূটনীতিক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থাকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করেছেন মোল্লা আখুন্দ। তিনি বলেন, এই অবস্থায় আসতে আফগানিস্তানকে প্রচুর অর্থ ও রক্ত ঝরাতে হয়েছে। আফগানদের রক্তপাত, হত্যাকাণ্ড ও অবমাননার দিন শেষ হয়েছে। বিনিময়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে আমাদের।

এদিকে ২০ বছর ধরে চলা আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদেশগুলোকে যেসব আফগান সহায়তা করেছিলেন, তাদের সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল তালেবান। গতকালের আলাপচারিতায় সেই প্রতিশ্রুতির কথা আবার সামনে আনেন মোল্লা আখুন্দ। তিনি জানান, আগের কর্মকাণ্ডের জন্য কারও ক্ষতি করেনি তালেবান। কারও ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে, এমন প্রমাণ কেউ ভবিষ্যতে দিতে পারবে না।

হাসান আখুন্দ বলেন, এ ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আপনি যা চান, তা করা সহজ। কিন্তু তালেবান সুশৃঙ্খলভাবে তার যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা আগের কর্মকাণ্ডের জন্য কারও ক্ষতি করিনি। সুতরাং আমি ইসলামি জাতিকে, বিশেষ করে আফগান জনগণকে আশ্বস্ত করছি যে, আমরা সবার মঙ্গল চাই, সাফল্য ও কল্যাণের কারণ হতে চাই এবং একটি ইসলামি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

পরিশেষে ‘পবিত্র এই কাজে’ সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান আফগানিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হাসান আখুন্দ।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •