উত্তরাধিকার আইন পরিবর্তনের দাবি হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদের

বিদ্যমান হিন্দু উত্তরাধিকার আইন সংস্কারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। আজ শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান সংস্থাটির সভাপতি ড. ময়না তালুকদার।

এতে বলা হয়, আপনারা জানেন, হিন্দু আইনে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য ও নানাবিধ অসঙ্গতি নিরসনের দাবিতে গত ১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ‘বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে আপনাদের সহযোগিতা প্রার্থী হয়ে আজ আমরা প্রথমবারের মত আপনাদের দারস্থ হয়েছি। হিন্দু আইন সংস্কার করে সংবিধিবদ্ধ হিন্দু পারিবারিক আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা, গুরুত্ব এবং মানবিক আবেদন আমরা আপনাদের মাধ্যমে জাতির কাছে ব্যাখ্যা করতে চাই।

বাংলাদেশে প্রচলিত প্রথানির্ভর হিন্দু আইনে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয়লিঙ্গের মানুষ সুদীর্ঘকাল ধরে নানাভাবে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। আইনগুলো প্রায় শতাব্দিকাল ধরে অসংশোধিত রয়ে যাওয়ায় এবং কোডিফাইড না হওয়ায় আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠায় ব্যাঘাত ঘটছে। এই আইন বৃটিশ আমলে গৃহীত এবং সনাতন হিন্দুধর্মের সঙ্গে অসঙ্গতিপূণ। বৌদ্ধ, জৈন এবং বিভিন্ন আদিবাসী গোত্রের মানুষ আলাদা ধর্মের অনুসারী হলেও তাদের সবাইকে একই হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। ধর্মের নামে এই আইন প্রচলিত হলেও বাস্তবিক অর্থে এর সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নামেমাত্র। এসব আইন মূলত প্রথাগত।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথা অনুযায়ী একেক অঞ্চলে একেক রকমের হিন্দু আইন প্রচলিত ছিল। আমাদের বাংলাদেশেও একেক অঞ্চলে একেকরকম প্রথাভিত্তিক হিন্দু আইন প্রচলিত আছে। এই আইন সনাতন ধর্মের অনুসারীদের জন্য সর্বজনগ্রাহ্য সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় বিধান হলে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্নরকম আইন হতে পারত না। বৃটিশ সরকার তাদের ২০০ বছরের শাসন আমলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রথাগুলোকে আইন হিসেবে গ্রহণ করেছিল। বৃটিশ আমলেই এসব আইন বহুবার সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন হয়েছিল। বৃটিশ সরকার বিদায় নেওয়ার পর স্বাধীন ভারতে এই আইন অনেকবার সংশোধন হয়েছে। হিন্দু প্রধান নেপাল এবং মরিশাসেও হিন্দু আইন সংশোধন হয়েছে। বৈষম্যমূলক আইনসমূহ তুলে দিয়ে সেসব দেশে নারী-পুরুষ সমঅধিকার ভিত্তিক সুষম আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ফলে সেসব দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে। তাতে হিন্দুদের ধর্ম যায়নি।

কিন্তু আমাদের বাংলাদেশ প্রথমে পাকিস্তানের অন্তর্গত এবং পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হলেও এ পর্যন্ত কোনো সরকার হিন্দু আইন সংশোধনের কাজে হাত দেয়নি। বর্তমান সরকার জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ প্রণয়নের মাধ্যমে লিঙ্গবৈষম্য নিরসনে অঙ্গিকারাবদ্ধ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহারেও নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের অঙ্গিকার রয়েছে। তাই আমরা অনতিবিলম্বে হিন্দু আইন সংস্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের উপর বৈষম্য ও অবিচারের অবসান ঘটানোর জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার জননী হিসেবে খ্যাত। তার হাত দিয়েই শতাব্দির এই কালো অন্ধকার দুরীভূত হবে বলে আমরা ভরসা রাখি।

এতে দাবি করা হয়, বিদ্যমান হিন্দু আইন বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ। কারণ বাংলদেশের সংবিধান নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং বলেছে, রাষ্ট্র এমন কোন আইন প্রণয়ন করবে না যা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। এ ধরনের কোন আইন থাকলেও তা বাতিল হয়ে যাবে। এখানে ঘোষিত মৌলিক অধিকারের প্রথমটিই হচ্ছে, ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ দ্বিতীয়ত: বলা হয়েছে, ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’ তৃতীয়ত: ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ অথচ সমান অধিকার দূরে থাক, প্রচলিত হিন্দু আইন অনুযায়ী পিতা-মাতার সম্পত্তিতে পুত্র সন্তানের উপস্থিতিতে কন্যা সন্তানের অধিকার নেই। পুত্র সন্তান না থাকলে কন্যা সন্তান প্রয়াত পিতার সম্পত্তি ভোগ-দখল করতে পারে মাত্র। শুধু পিতার কেন, স্বামীর সম্পত্তিতেও নিরঙ্কুশ উত্তরাধিকার নেই স্ত্রীর। তাদের অধিকার কেবল ভরণ-পোষণ লাভ অর্থাৎ আশ্রিত হয়ে থাকা, কিংবা বড়জোর সম্পত্তি ভোগ-দখল করার মধ্যে সীমিত। কেবল নারী নয়, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় অন্ধ, বোবা, কালা এবং দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও। এরকম বিধান অমানবিক। তাই আমরা এক নম্বরে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

দ্বিতীয়ত, আমরা হিন্দু অভিভাবকত্ব আইনের লিঙ্গবৈষম্য দূর করে সন্তানের উপর বাবা এবং মায়ের সমান অভিভাবকত্ব ও অধিকার প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।

তৃতীয়ত, হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান থাকলেও সে অধিকার শুধু পুরুষের। স্বামীর অনুমতি সাপেক্ষে স্ত্রী দত্তক নিতে পারে। অপুত্রক বিধবা মৃত্যুর আগে স্বামীর ‘পূর্ব নির্দেশ ছিল’ প্রমাণ করতে না পারলে দত্তক নিতে পারে না। শুধু তাই নয়, দত্তক নিতে হবে শুধু পুত্র অর্থাৎ পুরুষ শিশুকে। কন্যাশিশু দত্তক নেওয়ার বিধান নেই। ভিন্নগোত্রের বা ভিন্ন বর্ণের শিশুকে দত্তক নেওয়া যাবে না। প্রতিবন্ধী বা রুগ্ন শিশুকে দত্তক নেওয়া যাবে না। এধরণের বিধান অমানবিক, শিশুর প্রতি অসংবেদশীল এবং বৈষম্যমূলক। তাই লিঙ্গ ও বর্ণবৈষম্য নিরসন এবং মা ও শিশুর প্রতি অবিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গী অবসানের জন্য হিন্দু দত্তক আইন সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

চতুর্থত, হিন্দু শাস্ত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ এবং নারীর পুনঃবিবাহের সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও বিদ্যমান হিন্দু আইনে বিবাহ বিচ্ছেদের কারও কোনো অধিকার নেই। তবে স্ত্রী বিদ্যমান থাকতে স্বামী যতগুলো ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে। নারী বিবাহ বিচ্ছেদও চাইতে পারবে না, দ্বিতীয়বার বিয়েও করতে পারবে না। এমতাবস্থায় শত নির্যাতন সহ্য করেও নারীদেরকে স্বামীর অধিনস্ত হয়ে থাকতে হয় এবং কোনো প্রকার দাম্পত্য সম্পর্ক না থাকলেও ওই স্বামীর পরিচয়ই তাকে আজীবন বহন করতে হয়। সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের প্রয়োজন এবং চাহিদা আছে, কিন্তু আইন নেই। প্রেমহীন অচল সংসারে বাস্তবতার নিরীখে অনেকে ইদানিং আইনকে পাশ কাটিয়ে পারস্পরিক সম্মতিতে এফিডেভিট করে বিবাহ বিচ্ছেদ করে নিচ্ছে; আইনের কাছে যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন না থাকলেও বাস্তবতা মানুষকে এরকম ভিন্নপন্থা অবলম্বনে বাধ্য করছে। এতেই বিবাহ বিচ্ছেদ আইন প্রণয়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বোঝা যায়।

সর্বশেষ দাবি হিসেবে আমরা বিবাহ নিবন্ধন বাধ্যতামুলক করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি – যাতে কোনো অসৎ ব্যক্তি বিয়ের নামে ফাঁকিবাজী, প্রতারণা এবং বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া শিশু বা অনাগত কোনো শিশুর ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে না পারে। প্রাথমিকভাবে এই পাঁচ দফা দাবি আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে তুলে ধরছি। দেশ ও মানুষের স্বার্থে এসব দাবি আদায়ের জন্য আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি ৯ টি সুনির্দিষ্ট কারণে হিন্দু আইনের সংস্কারের দাবি করেছে। কারণগুলো হলো-
১. কাউকে মানুষ হিসেবে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অন্যায়। বিদ্যমান আইন পুরুষকে একচেটিয়া কর্তৃত্ব দিয়েছে। নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নানাভাবে অমর্যাদা ও অধিকার বঞ্চিত করেছে। তাই ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য হিন্দু আইন সংশোধন দরকার।

২. সমঅধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা হলে নারীর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিক ক্ষমতায়ন হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া অর্ধেক অংশের উন্নয়ন হলে মানবসম্পদ ও অর্থসম্পদের বিকাশ ঘটবে। ফলে হিন্দু সম্প্রদায় এবং দেশ উন্নত হবে।

৩. পরিবারে নারীরা নির্ভরশীল না থেকে আত্মনির্ভর এবং আত্মমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হলে হিন্দু পরিবারগুলো শক্তিশালী হবে। নারী শিক্ষা বাড়বে এবং সংসার ও সম্পদ পরিচালনায় নারীরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবে। নারী ‘অবলা’ থাকবে না। নারী শক্তি এগিয়ে আসায় সমাজে বাড়তি শক্তির যোগান হবে- যে শক্তিকে এতকাল যাবত দমিত করে রাখা হয়েছে।

৪. আইন সংশোধন করে নারী ও ভিন্নলিঙ্গের মানুষকে সমঅধিকার ও সমমর্যাদা দেওয়া হলে বিশ্বসভায় হিন্দু সমাজের মর্যাদা বাড়বে। সভ্য দুনিয়ায় হিন্দুদের অবস্থান হবে প্রথম সারিতে। যেসব সম্প্রদায় বৈষম্যমূলক আইন ও নীতির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাদের জন্য হিন্দুরা অনুকরণীয় আদর্শ হবে।

৫. সময় ও সমাজ গতিশীল। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে যায় এবং নতুন বাস্তবতা হাজির হয়। তাই সমাজ বদলায়। সমাজকে বিশেষ কোনো সময়ের আইনের ফাঁদে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। চিরস্থায়ীভাবে অপরিবর্তনশীল আইনের জামা পরিয়ে কোনো রাষ্ট্র ও সমাজের গতি-প্রবৃদ্ধি আটকে রাখা যায় না। তাই সমাজ ও সময়ের গতির বাস্তবতা মেনে নিয়ে হিন্দু আইন সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা অনিবার্য।

৬. সংবিধিবদ্ধ না হওয়ায় প্রাচীন আইনসমুহে অস্পষ্টতা, দ্ব্যর্থকতা, স্ববিরোধ ও অসঙ্গতি আছে। বিভিন্ন আদালতের বিভিন্ন রকম রায় এবং আধুনিক রাষ্ট্রীয় আইন ও বিধিবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকতার কারণেও আদালতে মামলা পরিচালনায় অসুবিধা ঘটে। তাই হিন্দু আইনের সংশোধন, সুস্পষ্টিকরণ, আধুনিকায়ন ও সংবিধিবদ্ধকরণ জরুরি।

৭. হিন্দু আইন নামে বাংলাদেশে যা প্রচলিত আছে তা কোনো ধর্মীয় আইন নয়। এগুলো ইংরেজদের বানানো পরিত্যক্ত প্রথাভিত্তিক আইন। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্নরকম প্রথাভিত্তিক হিন্দু আইন চালু আছে। ভারতেও বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম প্রথাভিত্তিক হিন্দু আইন চালু ছিল। ভারত, নেপাল এবং মরিশাসে হিন্দু আইন সংশোধন করে সবার সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। হিন্দু আইন ধর্মের কোনো আবশ্যিক শর্ত হলে হিন্দু প্রধান ওই দেশগুলো আইন সংশোধন করতো না। ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে বসবাসরত হিন্দুরা সেইসব দেশের আইনের আওতায় পরিচালিত হন। তাতে ধর্মপালনে কোনো বাধা হয় না।

৮. বিদ্যমান হিন্দু আইন সনাতন ধর্মের এবং বৌদ্ধ ধর্মের মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত ও বিকৃত। নারীকে শক্তিহীন, অধিকারহীন, দুর্বল ও আশ্রিত করে রাখা এবং লিঙ্গ বিবেচনায় মানুষের প্রতি বৈষম্য করা সনাতন এবং বৌদ্ধ উভয় ধর্মমতের বিরোধী। সনাতন ধর্মে নারীকে জগৎমাতার অধিষ্ঠান ও শক্তির আধার হিসেবে দেখা হয়। নারীরা দেবী দুর্গার বহুরূপের প্রকাশ; সৃষ্টি, স্থিতি এবং বিনাশের শক্তি। ঈশ্বর সর্বভূতে শক্তিরূপে এবং মাতৃরূপে বিরাজিতা। শক্তিময়ী নারীকে শক্তিহীন ও দুর্বল ভাবা; জগতের বাণীমূর্তি নারীকে অবলা বিবেচনা করা এবং আইনগতভাবে পুরুষের আশ্রিত করে রাখা ধর্মের পরিপন্থী। মানুষ ও ধর্মের জাগরণের জন্য মাতৃশক্তির প্রকৃত বোধন দরকার।

৯. নারীর প্রতি বৈষম্য ও বঞ্চনার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে কখনো কখনো হিন্দু নারীরা অন্য ধর্মের মানুষদের দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে ধর্মান্তরীত হন। অর্থহীন, বিত্তহীন, অধিকারহীন, আত্মবিশ্বাসহীন, পরনির্ভর, মেধায়, মননে ও আইনগতভাবে দুর্বল করে রাখায় অনেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তাদের কেউ কেউ ভিন্নধর্মের মানুষের পাল্লায় পরে বিভ্রান্ত হন। নারীদের সমঅধিকার দিলে তাদের ক্ষমতায়ন ঘটবে। আত্মশক্তিতে বলিয়ান একজন মানুষকে সহজে বিভ্রান্ত করা যায় না। ফলে ভুলিয়ে বা বলপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে বা ধর্মান্তরিত করা কঠিন হবে। তাছাড়া, উত্তরাধিকারে নারীরা সমঅংশীদার হলে তাদের মধ্যে সম্পদ হারানোর ভয়ও যুক্ত হবে। কারণ আইন অনুযায়ী কেউ ধর্মান্তরিত হলে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এতে বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু হিন্দু সম্প্রদায় সুরক্ষিত হবে।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •