যুক্তরাষ্ট্রে আইডার তাণ্ডব, মৃত্যু বেড়ে ৪৬

অতিবৃষ্টি ও হ্যারিকেন আইডার প্রভাবে সৃষ্ট বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। কেবল নিউ জার্সিতেই মারা গেছে অন্তত ২৩ জন। এছাড়া নিউইয়র্ক, পেনসিলভ্যানিয়াতেও অনেক লোক প্রাণ হারিয়েছে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় বহু মানুষ এখনও আটকা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও উদ্ধার কাজ চলছে। পানিতে ভেসে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকেও মরদেহ উদ্ধার করার কথা জানা গেছে।

নিউ জার্সির গভর্নর ফিল মারফি বলেছেন, বেশিরভাগই মারা গেছেন তাদের গাড়ি বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া বা পানিতে গাড়ি ভেসে যাওয়ার কারণে।

আইডায় বিধ্বস্ত ওই তিন রাজ্য থেকে ভয়াবহ কিছু দৃশ্য ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে নেটমাধ্যমে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং তুমুল ঝড়ের জেরে লণ্ডভণ্ড জনজীবন। রাস্তাঘাটে যাতায়াত বন্ধ হলেও বুধবার পর্যন্ত চালু ছিল সাবওয়ে। কিন্তু বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) থেকে স্টেশনগুলোতেও পানি ঢুকতে শুরু করে।

বাধ্য হয়ে মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটি নিউইয়র্ক শহরে সাবওয়ে সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। নিউইয়র্কের সাবওয়েতে অন্তত ১৭টি ট্রেন আটকে পড়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে।

নিউইয়র্কে আগেই জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল। এবার নিউ জার্সির ২১টি কাউন্টিতেও জরুরি অবস্থা জারি করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ফিল মারফি।

নিউইয়র্কে মারা গেছেন ১৪ জন। এছাড়া ফিলাডেলফিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় মারা গেছেন ৩ জন। অন্যত্র আরেক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে ‘ঐতিহাসিক বিনিয়োগ’ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পুরো দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং এটি জীবন, মৃত্যুর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হ্যারিকেন আইডার প্রভাবে স্থানীয় সময় বুধবার (০১ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি এবং নিউজার্সি এলাকায়। ভারী বর্ষণের কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ এবং রেল ও পাতাল রেল সেবা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সির কর্তৃপক্ষ।

বুধবার রাত থেকে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে প্রবল বর্ষণ হলেও এরই মধ্যে একটি টর্নেডোও আঘাত হেনেছে নিউইয়র্কে। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন ধারবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ইতপূর্বে ঘটার কোনো রেকর্ড নেই।

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •