মামুনুলের নেতৃত্বাধীন ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজীনে’ যোগ দেন শিশুবক্তা রফিকুল

হেফাজত নেতাদের গ্রেফতারের পর রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলছে। তাদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করছে, দেশব্যাপী বড় ধরনের সহিংসতার পরিকল্পনা ছিল হেফাজতের। সংগঠনটির নেতাদের অর্থের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন নামে একটি সংগঠন দেশে বেশ তৎপর। হেফাজতের উগ্রপন্থি নেতারা এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কোথাও কোন ওয়াজ মাহফিল করতে হলে তাদের মাধ্যমে আসতে আয়োজকদের বাধ্য করা হয়।

কোন ওয়াজ মাহফিলে কোন বক্তাকে দাওয়াত দেওয়া হবে সেটি ঠিক করে দিতেন মামুনুল হকসহ হেফাজত নেতারা।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ‘রাবেতাতুল ওয়ায়েজীন’র নেতৃত্বে ছিলেন। আগে শিশুবক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, সম্প্রতি তাকে যুক্ত করা হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকেন্দ্রিক বিক্ষোভ থেকে সহিংসতার ঘটনায় সম্প্রতি মামুনুল হকসহ হেফাজতের বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামুনুল হক, রফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তাদের গ্রেফতারের পর এখন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, হেফাজত বড় ধরনের অপপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল; যা দৃশ্যত এতদিন অজানা ছিল তাদের।

হেফাজতের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর প্রায় অর্ধশতটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে নাশকতার ১২টি মামলা রয়েছে।

এসব মামলায় ঢাকায়ই হেফাজতের প্রথম সারির ১৬ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, পাকিস্তানের ‘তেহেরিক-ই-লাব্বায়িক’ নামের সংগঠনের আদলে তারা হেফাজতে ইসলামী বাংলাদেশকে গঠন করে পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের মতো এদেশকে গড়ে তুলতে চায়। যার পেছনে জামায়াত-শিবির রয়েছে।

শনিবার গ্রেফতার হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আহমদ আবদুল কাদের ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন সাবেক সভাপতি।

মাহবুব বলেন, হেফাজতের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জড়িত। মূলত তারাই নেতৃত্ব দিচ্ছে হেফাজতকে।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে যে সব ভিডিও ফুটেজ, অডিও তারা সংগ্রহ করেছেন, তাতে সরকার, রাষ্ট্রবিরোধী‘অনেক তথ্যপ্রমাণ’ পাওয়া গেছে।

হেফাজত দেশের অনুদান সংগ্রহের পাশাপাশি প্রবাসীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আসত বলে জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাহবুব।

তিনি বলেন, তাদের অর্থের উৎস খোঁজা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

হেফাজতে ইসলাম মাদ্রাসার কোমলমতি শিশুদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে উল্লেখ করে মাহবুব বলেন, এই সংগঠনের নেতারা নিরীহ শিশু ছাত্রদের তাদের বড় পুঁজি বলে মনে করে। এই ছাত্রদের কোনো কারণ ছাড়াই রাস্তায় বের করে আনা যায় এবং তারা কাজেও লাগায়।

গ্রেফতার হেফাজত নেতাদের কাছ থেকে নতুন নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব।

অর্থসূচক/এমএস

 

  
    

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়.