ঢাকায় আমার বাড়ি নেই, এক কাঠা জমিও নেই: সুজন

ক্রিকেটাঙ্গন থেকে কোটি কোটি নিচ্ছেন- এমন মন্তব্যকারীদের কড়া জবাব দিলেন বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন। জানালেন ঢাকায় তার এক কাঠা জমিও নেই। ঢাকা শহরে বাড়িও নেই তার।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) দেশের এক ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইটকে এ বিষয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন বর্তমানের বোর্ড পরিচালকদের অন্যতম এ সাবেক তারকা।

তার আয়ের উৎস নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানোর প্রসঙ্গ তোলা হয়। জবাবে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে সুজন বলেন, আমি ক্রিকেট খেলে এমন কোনো টাকা-পয়সা জমাইনি। বাংলাদেশে মনে হয় একমাত্র ক্রিকেটার আমি, যার একটা জায়গা নেই, বাড়ি নেই ঢাকা শহরে। সব ক্রিকেটারের পূর্বাচলে ৫-১০ কাঠা জমি আছে, আমার তো এক কাঠাও নেই। এসব অনেকে জানে না।

ট্রলকারীদের উদ্দেশে সুজন বলেন, আমাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যকারীরা মনে করেন, আমি কোটি কোটি টাকা নিয়ে নিচ্ছি। ভাই আপনারা শুনে রাখেন, ঢাকায় আমার নিজস্ব কোনো জায়গাও নেই। আমার অনেক টাকা থাকলে পূর্বাচলে নিশ্চয় ৩টা জমি থাকত আজকে। আমার সে জন্য কোনো দুঃখ নেই। আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।

তিনি বলেন, আমি আসলেই রাগ থেকে কথাগুলো বলছি যে, যারা এসব বলেন, যারা আমাকে নিয়ে ট্রল করেন, তারা একদম অশিক্ষিত। তাদের ক্রিকেট জ্ঞান বলতে কিছু নেই। আমার সম্পর্কে কথা বলার আগে জেনে বলবেন। না হলে যারা দেখতে চান, আমার থেকে শুনে যান, আমাকে দেখে যান আমি কীভাবে থাকি, কী খাই, কীভাবে চলি।

নিজের আয়ের উৎসের বিষয়টিও অকপটে জানান সুজন। বলেন, আমি আসলেই অনেক কাজ করি। কিন্তু আমি কি রাজনীতি করি? আমি কি ব্যবসা করে ক্রিকেট চালাই? আমি বেক্সিমকোয় চাকরি করি। সেটার ক্রিকেট দেখি। সেখান থেকে একটা বেতন পাই। ঢাকা ডায়নামাইট আর আবাহনী দেখি। রাজশাহীতে ক্রিকেট একাডেমি চালাই। আমি তো ফুটবল একাডেমি চালাই না। আমার তো সারাদিন ক্রিকেট। ঘুম থেকে উঠে রাতে শোয়া পর্যন্ত ক্রিকেট ছাড়া কিছু নাই আমার। আমি তো আর কিছু করি না। অনেকে বলে আমি বাংলা ট্র্যাক একাডেমি থেকে অনেক অনেক টাকা নিচ্ছি। কিন্তু ওরা আসলে কিছু জানেই না।

সুজন বলেন, আমি ওদের উদ্দেশে বলে দিই, আমি ওখানে ১২ দিন কাজ করি মাসে। আমি একদিন কাজ না করলেই আমার একদিনের বেতন কেটে রাখা হয়। অবশ্যই আমার টাকার দরকার। কিন্তু আমি কোটি কোটি টাকা বেতন পাই না। সামান্য একটা বেতন পাই, যেটা আমার প্রয়োজন। এটা দিয়েই আমাকে চলতে হয়।

অর্থসূচক/কেএসআর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •   
  •